Showing posts with label bangla sahitya. Show all posts
Showing posts with label bangla sahitya. Show all posts
Wednesday, 4 April 2018
There Are Many Differences Between Srikrishnakirtan & Vaishnava Recitals/শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও বৈষ্ণব পদাবলির মধ্যে নানান মিল-অমিল
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও বৈষ্ণব পদাবলির মধ্যে নানান মিল-অমিল সত্বেও'রাধা বিরহ' অংশের দিকে লক্ষ্য রেখে রসিক সমালোচক কে অনুসরণ করে আমরা ও ও বলতে পারি যে, শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রাধার যেখানে শেষ, পদাবলী রাধার সেখানে আরম্ভ"।।
তবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য গ্রন্থে প্রতিটি চরিত্র ধীরে ধীরে বিকশিত হয়ে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে; যা বৈষ্ণব পদাবলীর ক্ষেত্রে কখনোই তা সম্ভব হয়নি। বড়ু চন্ডীদাস ও বিষ্ণু পদকর্তারা রাধার বিরহিনী মূর্তি অংকনে অধিক কৃতিত্ব দেখিয়েছেন- এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। তবে এক্ষেত্রে বড়ু চন্ডীদাস তাঁর স্বাতন্ত্রতার পরিচয় পায়। তাঁর রাধা ধূলিমলিন ধরিত্রীর রক্তমাংসে গড়া মানবী। এ রাধার অঙ্গে অঙ্গে সুপরিচিত মাটির ঘ্রাণ। এ রাধা প্রথম থেকেই কৃষ্ণের প্রস্তাবে প্রতিবাদী, কৃষ্ণ তাঁকে বলপূর্বক অধিকার করেছেন। তাই বহু চন্ডীদাসের রাধা প্রথমে শ্যামবীত রাগিনী ও পরে তিব্র ও চুরান্ত রূপে অনুরাগিনী তে পরিণত হয়েছেন। এই অনুরাগিনী রাধার মধ্যে বিরহবেদনা সঞ্চারিত হয়ে পদাবলী রাধার সঙ্গে এক সমতলে স্থাপিত হয়েছেন তিনি। মিলন উল্লাসের অবসানে রাধার হৃদ-বৃন্দাবনে বেজেছে বিরহের বাঁশি। পদাবলী রাধার মতো বড়ুর রাধাও বংশীধ্বনি শ্রবণে ব্যাকুল হয়ে বলেছেন;-" আকুল শরীর মোর বে আকুল মন।/ বাঁশির শবঁদে মো আউলাইলোঁ রান্ধন"।। অর্থাৎ বংশী খণ্ড থেকেই এই রাধা কৃষ্ণের প্রতি পূর্ব বর্তায় অনুরক্ত হয়েছে। এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল ভারখন্ড থেকেই। বংশী খণ্ড ও রাধাবিরহ অংশে তা অপূর্ব ইতিবাচক পরিণতি। তা সত্ত্বেও এই রাধা শেষপর্যন্ত মানবী। মোটকথা শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রাধা লৌকিক নায়িকা। তারমধ্যে ভাব-বৃন্দাবনের যোগিনীপারা রাধার স্তিমিত আভাস হয়তো পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ভাবনবলতার প্রৌঢ় 'পারাবতী' হতে সে পারিনি। তাই আমরা বলতে পারি শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে রাধা'পূর্ব রাধা' ও বৈষ্ণব পদাবলির রাধা'উত্তর রাধা'। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও বৈষ্ণব পদাবলী উভয়ই রাধা কৃষ্ণলীলায় সমুজ্জ্বল।
Monday, 26 March 2018
Language / Historical importance of Charyapada
চর্যাপদের ভাষা:-
বাংলা ভাষার জন্মলগ্নে সাহিত্যিক নিদর্শন চর্যাপদ। বৌদ্ধ সাধকেরা চর্যার ভাষার মধ্য দিয়ে সাধনার গোপনীয়তা কে অনেকটা হেঁয়ালি ভঙ্গিতে ব্যক্ত করেছেন, তাই কোন কোন পন্ডিত এই ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষাতে অভিহিত করেছেন। চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে শাস্ত্রী মহাশয়ের বক্তব্য;-" সন্ধ্যা ভাষার মানে আলো-আঁধারি ভাষা, কতক আলো কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায় খানিক বুঝা যায় না"। এই ভাষা সন্ধ্যায় ম্লান গোধুলীলগ্নের মত এক গভীর রহস্য আছে- কতক স্পষ্ট কতক অস্পষ্ট। অর্থাৎ বাইরে এক অর্থ, ভিতর এক অন্য অর্থ; বাইরে সাধারন অর্থ, ভিতরে সুগভীর আধ্যাত্বিকতা। কোন কোন পণ্ডিতদের মতে সন্ধ্যা ভাষা না হয়ে'সন্ধা' ভাষা যার অর্থ অভিপ্রেত বা অধিপ্রায়িক রচনা। যে শব্দের অভিষ্ঠ অর্থ অনুধ্যান করে বুঝতে হয়। যাতে অদীক্ষিত বা অন্য ধর্মাবলম্বীরা সহজিয়া সাধনার গূঢ় রহস্য বুঝতে না পারে এজন্য চর্যাপদকর্তাগণ সন্ধ্যা ভাষা ব্যবহার করেছেন। এই শব্দগুলি সাধন গত কতকগুলি রহস্যপূর্ণ ইঙ্গিত আছে, যা শুধু এই পথের পথিকরাই বুঝতে পারেন। সাধনার গোপনীয়তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পাড়া কতকগুলি কায়িক ও বাচনিক সংকেত সৃষ্টি করেছেন, এগুলির মাধ্যমে যোগীরা সম্প্রদায়ভুক্ত অন্য যোগীদের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান করতে বা তত্ত্বকথা আলোচনা করতেন। এই সংকেত এর তাৎপর্য কেবলমাত্র যোগীরাই বোধগম্য ছিল। সন্ধ্যা শব্দের কয়েকটি উদাহরণ দিলে বোধগম্য হবে;- ('হরিনা' শব্দের বাহ্যিক অর্থ মৃগ/ হরিণ, কিন্তু এর সন্ধ্যা অর্থ চিত্ত বা মন।)('করুণা' শব্দের বাহ্যিক অর্থ মৈত্রী, কিন্তু এর সন্ধ্যা অর্থ বোধিচিত্ত)।।
চর্যাপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব:-
সাহিত্য হল জীবনবেদ। মানব জীবনের বিচিত্র সুখ-দুঃখ ও আশা-নিরাশার কাহিনী নিয়ে সাহিত্য গড়ে ওঠে। তাই কোন রচনার ঐতিহাসিক মূল্য আছে কিনা বিচার করতে গেলে দেখতে হবে তা জীবন কাহিনী আশ্রিত কিনা এবং ভাষা, ছন্দ ও অলংকারের সমন্বয়ে সেই রচনা চমৎকারিত্ব লাভ করে রস সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে কিনা। ভাষাতত্ত্ব, ধর্ম মতবাদ ও দার্শনিকতা, সমাজ চিত্র, সাধন তত্ত্ব সাহিত্যে কাব্যমূল্যের দৃষ্টান্ত স্বরূপে চর্যাপদ ঐতিহাসিক গুরুত্ব লাভ করেছে।
প্রথমত, এ যাবৎ আবিষ্কৃত প্রাচীন যুগের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন।
দ্বিতীয়ত, চর্যাপদকে কেন্দ্র করেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সাহিত্যিক ঐতিহ্যের অভিযান শুরু হয়েছে।
তৃতীয়ত, চর্যাপদের প্রত্যেকটি পদের সূচনায় রাগ রাগিনী, তাল ও লয়ের উল্লেখ আছে। এ থেকে বোঝা যায় চর্যার পদগুলি গান হিসাবে গাওয়া হতো।
চতুর্থত, চর্যাপদের রূপক প্রতীকগুলির মধ্যে তৎকালীন সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রনৈতিক জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
পঞ্চমত, সংস্কৃত চিত্রাত্মক/ চিত্রধর্মী শ্লোকের বদলে বাংলা গীতি ধর্মী পদ রচনার সূচনা।
ষষ্ঠত, চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রবেশদ্বার স্বরূপ। এই গ্রন্থের ভাষা মাগধী অপভ্রংশ স্তর অতিক্রম করে নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা রূপে সদ্য উদ্ভূত প্রত্ন বাংলাভাষার প্রামাণ্য উপকরণ।
সপ্তমত, বাংলা সাহিত্যেও চর্যার সুদূরপ্রসারী প্রত্যক্ষ প্রভাব ও তাৎপর্যপূর্ণ। চর্যার অনুবৃত্তি দেখা যায় সপ্তদশ শতাব্দীর নাথ সাহিত্য ও বাউল গানে।
চর্যাপদ সাধন বিষয়ক রচনা হলেও মানব জীবনের সুখ-দুঃখের ভিত্তিতেই এর প্রতিষ্ঠা। গভীর মর্ত্য প্রীতি ও জীবন রস রসিকতা তাদের রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রূপ ও অরূপ জগত চর্যাপদে একাকার হয়ে গেছে। এই কারণগুলির জন্য চর্যাপদ ঐতিহাসিক মূল্য লাভ করে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
Labels
Tags
Popular
-
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কৃষ্ণচরিত্রের অভিনবত্ব: দীর্ঘকাল ধরে পদাবলী সাহিত্য পাঠের সূত্রে কৃষ্ণচরিত্রের যে মহিমান্বিত, প্রেমিক অথচ সম্ভ...
-
শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রাধা এবং পদাবলী সাহিত্যের রাধা কি এক? রাধা চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা কর। পদাবলী সাহিত্যে যে রাধা চরিত্রের সঙ্গে আমরা প...
-
বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা ভাষায় রচিত পদাবলী সাহিত্যের আদি কবি রূপে সিকৃতি লাভ করে বড়ু চন্ডীদাস। কৃষ্ণলীলা বিষয়ক একখানি বৃ...
blogger-disqus-facebook